কুড়িগ্রামের উলিপুর উপজেলায় ১০৪টি ভিজিএফ স্লিপসহ আটক এক ব্যক্তিকে গভীর রাতে মুচলেকা নিয়ে ছেড়ে দেওয়ার ঘটনায় এলাকায় ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে। দিনভর নাটকীয় ঘটনার পর প্রশাসনের এমন সিদ্ধান্ত নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে নানা প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। ঘটনাটি ঘটেছে উপজেলার দলদলিয়া ইউনিয়নে।
স্থানীয় সূত্র ও প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, পবিত্র ঈদুল আজহা উপলক্ষে রোববার (২৬ মে) সকাল থেকে দলদলিয়া ইউনিয়ন পরিষদে ভিজিএফ চাল বিতরণ কার্যক্রম শুরু হয়। এ ইউনিয়নে মোট ৫ হাজার ৪৪০ জন উপকারভোগীর মাঝে জনপ্রতি ১০ কেজি করে মোট ৫০ মেট্রিক টন ৪৪০ কেজি চাল বিতরণের বরাদ্দ ছিল।
সোমবার দুপুরে চাল বিতরণের সময় ইউনিয়ন পরিষদ চত্বরে ১০৪টি ভিজিএফ স্লিপসহ মতিয়ার রহমান (৬০) নামে এক ব্যক্তিকে স্থানীয়রা আটক করেন। পরে খবর পেয়ে উপজেলা প্রশাসন ও পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে তাকে থানায় নিয়ে যায়। এ সময় তার কাছ থেকে জব্দ করা হয় দুঃস্থ ও অতি দরিদ্রদের নামে বরাদ্দকৃত ১০৪টি ভিজিএফ স্লিপ।
আটক ব্যক্তি উপজেলার দলদলিয়া ইউনিয়নের সাহেবের কুটি গ্রামের হোসেন আলীর ছেলে বলে জানা গেছে।
ঘটনার পর প্রশাসনের পক্ষ থেকে তাকে আইনি প্রক্রিয়ার আওতায় আনার কথা বলা হলেও পরে গভীর রাতে মুচলেকা নিয়ে ছেড়ে দেওয়া হয় বলে অভিযোগ উঠেছে। এতে স্থানীয়দের মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন স্থানীয় বাসিন্দা অভিযোগ করেন, জব্দ করা ১০৪টি স্লিপের বিপরীতে প্রায় ১ মেট্রিক টন ৪০ কেজি চাল উত্তোলনের সুযোগ ছিল এবং এসব চাল কালোবাজারে বিক্রির আশঙ্কা ছিল।
এ বিষয়ে দলদলিয়া ইউনিয়ন পরিষদের প্যানেল চেয়ারম্যান বলেন,
চাল বিতরণের সময় স্থানীয় জনতা মতিয়ার রহমানকে স্লিপসহ আটক করে। পরে এসিল্যান্ড ও পুলিশ এসে তাকে নিয়ে যায়। জব্দ করা স্লিপগুলোর বিপরীতে বরাদ্দ চাল সংরক্ষণ রেখে বাকিগুলো বিতরণ করা হয়েছে।
উলিপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা জানান,
সহকারী কমিশনার (ভূমি) মহোদয়ের নির্দেশে তাকে থানায় আনা হয়। পরে অভিযোগকারীরা লিখিত মুচলেকা দিলে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশনায় তাকে ছেড়ে দেওয়া হয়।
এ বিষয়ে সহকারী কমিশনার (ভূমি) বলেন,
মৌখিক অভিযোগের ভিত্তিতে ওই ব্যক্তিকে আটক করে ১০৪টি ভিজিএফ স্লিপ জব্দ করা হয়। তবে তার কাছ থেকে সরাসরি কোনো চাল উদ্ধার হয়নি। পরবর্তীতে স্থানীয়দের সুপারিশ ও মানবিক বিষয় বিবেচনায় মুচলেকা নিয়ে তাকে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে।
ঘটনাটি নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে নানা প্রশ্নের সৃষ্টি হয়েছে। অনেকেই জানতে চেয়েছেন, বিপুল পরিমাণ ভিজিএফ স্লিপসহ আটক হওয়ার পরও কেন ওই ব্যক্তির বিরুদ্ধে নিয়মিত মামলা করা হয়নি।
মোঃ আলমগীর হোসাইন সিনিয়র স্টাফ,রিপোর্টার 



















