চট্টগ্রামে ২০ হাজারেরও বেশি কেএনএফ পোশাক জব্দের ঘটনায় দায়ের করা সন্ত্রাসবিরোধী আইনের মামলায় প্রধান আসামি সাহেদুল ইসলাম (২৫) আদালতকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে কারাগার থেকে মুক্ত হয়েছেন। চাঞ্চল্যকর এই তথ্য ফাঁসের পর বিচার বিভাগে ব্যাপক তোলপাড় শুরু হয়েছে।
যেভাবে ঘটল এই ‘বিস্ময়কর’ জালিয়াতি
গত সপ্তাহে একই মামলার অন্য এক আসামির জামিন শুনানির সময় বিষয়টি প্রথম প্রকাশ পায়। অনুসন্ধানে উঠে আসে জালিয়াতির এক সুনিপুণ চিত্র:
উচ্চ আদালতে জামিন পাওয়ার জন্য একটি ভিন্ন মামলার (যাতে কুকি-চিনের সম্পৃক্ততা ছিল না) এজাহার দাখিল করা হয়।
বিচারপতিদের স্বাক্ষরিত জামিন আদেশের প্রথম পৃষ্ঠায় জালিয়াতি করে আসল মামলার নম্বর, থানা ও অভিযোগের ধারাগুলো সুকৌশলে বসিয়ে দেওয়া হয়।
এই জাল আদেশটি কারাগারে জমা দিয়ে সাত মাস আগেই মুক্তি পান সাহেদুল।
প্রধান বিচারপতির কঠোর পদক্ষেপ
ঘটনাটি অ্যাটর্নি জেনারেল ব্যারিস্টার মো. রুহুল কুদ্দুস কাজল নজরে আনলে প্রধান বিচারপতি জুবায়ের রহমান চৌধুরী তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দেন।
সুপ্রিম কোর্টের রেজিস্ট্রার জেনারেলকে পুরো ঘটনাটি তদন্ত করে ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে প্রতিবেদন জমা দিতে বলা হয়েছে।
ইতিমধ্যেই তদন্তে জালিয়াতির সত্যতা মিলেছে বলে নিশ্চিত করেছে সংশ্লিষ্ট দপ্তর।
২০২৫ সালের ১৭ মে চট্টগ্রামের বায়েজিদ বোস্তামি এলাকার ‘রিংভো অ্যাপারেলস’ নামক একটি পোশাক কারখানা থেকে ২০ হাজার ৩০০টি পোশাক জব্দ করা হয়। অভিযোগ ছিল, এই পোশাকগুলো পাহাড়ের সশস্ত্র গোষ্ঠী কুকি-চিন ন্যাশনাল ফ্রন্টের (কেএনএফ) জন্য তৈরি করা হচ্ছিল। এই ঘটনায় কারখানার মালিক সাহেদুল ইসলামসহ মোট ৩ জনের বিরুদ্ধে সন্ত্রাসবিরোধী আইনে মামলা দায়ের করা হয়।
আদালতের নথিপত্র পরিবর্তন করে একজন দুর্ধর্ষ মামলার আসামি মুক্ত হয়ে যাওয়া বিচার ব্যবস্থার নিরাপত্তার জন্য বড় ধরনের শঙ্কা তৈরি করেছে। তদন্ত শেষে দায়ীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার অপেক্ষা এখন সারা দেশ।
পারভেজ রহমান। চট্টগ্রাম প্রতিনিধি। 



















