শিশুর বুদ্ধি ও বিকাশ মূলত নির্ভর করে মস্তিষ্কের বিকাশের উপর একটি শিশু জন্মের সময় প্রায় শতকরা ৩৩ মস্তিষ্ক নিয়ে জন্মে। প্রথম বছরে প্রায় শতকরা ৫৫ মস্তিষ্ক বৃদ্ধি পায় এবং দ্বিতীয় বছরে বৃদ্ধি পায় শতকরা ৯৫ ভাগ বাকিটা ৫ – ৬বছরের মধ্যে শেষ হয়। সুতরাং মানব শিশুর জীবনের প্রথম ৫ – ৬ বছর মস্তিষ্ক বিকাশের জন্য খুব গুরুত্বপূর্ণ সময় । মানব মস্তিষ্ক কোটি কোটি নিউরন বা স্নায়ু কোষের সমষ্টি।আমাদের মস্তিষ্ক তখনই ঠিকভাবে কার্যকর হবে যখন এই নিউরন গুলো পরস্পরের মধ্যে সংযোগ তৈরি হবে। শিশুর মস্তিষ্কের অসংখ্য নিউরনের মধ্যে প্রথম ৫ বছরের মধ্যেই যোগাযোগ তৈরি করতে হবে অন্যথায় নিউরন গুলো পুরো কার্যকর হবে না। সুতরাং শিশু বিকাশের জন্য জীবনের প্রথম ৫ – ৬ বছর বয়স অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। মস্তিষ্কের নিউরন গুলো পারস্পারিক সংযোগ তৈরীর মূল উপায় হল শিশুকে নিজের ও তার পরিবেশ সম্পর্কে যথেষ্ট এবং সংবেদনশীল করে তোলা। এ বিষয়ে আমাদের করণীয় হতে পারে তা আলোচনা করা হলো……..
১.শিশুকে শরীরের অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ ও বস্তু প্রাণী ইত্যাদি চিনতে শিখান.
২.শিশুকে বিভিন্ন রং এবং আকার আকৃতির ছোট বাক্স কাঠের টুকরা বা প্লাস্টিকের জিনিস দিয়ে খেলতে দিন.
৩.শিশুর সাথে প্রচুর কথা বলুন এবং ছবি দেখিয়ে ছোট ছোট গল্প বলুন। শিশুকে সাথে নিয়ে ছড়া গান করুন এবং আঁকাআঁকির জন্য কাগজ পেন্সিল দিন.
৪.শিশু কোন কিছু কে ভয় পেলে কারণ জানুন এবং ভয় ভাঙিয়ে দিন.
৫.শিশুকে ভাত খাওয়া, হাত ধোয়া, দাঁত মাজা, কাপড় পড়া, চুল আঁচড়ানো ইত্যাদি ছোটখাটো কাজ করতে উৎসাহিত করুন.
৬.শিশুকে নিজে নিজে হাঁটতে সাহায্য করুণ এবং কনো কিছু ধরে হাঁটতে বা দাঁড়াতে দিন.
৭.শিশুকে অন্য শিশুর সাথে খেলা করার সুযোগ দিন শিশুর সাথে খেলায় অংশ নিন.
৮.শিশুকে নিরাপদে হাঁটতে দৌড়াতে লাফ দিতে বল ছুড়ে খেলা করতে দিন.
৯.সঠিক উচ্চারণে শিশুর সব প্রশ্নের উত্তর দিন শিশুকে শুদ্ধভাবে কথা বলতে শেখান.
১০.শিশুরা বড়দের দেখে শিখে, সেজন্য শিশুর সাথে বা তার সামনে ভালো আচরণ করুন তার সামনে ঝগড়া করবেন না.
উপসংহার
………………
শিশুরা আমাদের শ্রেষ্ঠ সম্পদ, উজ্জল বাংলাদেশের জন্য অত্যন্ত প্রয়োজন। এদের পুষ্টি ও বিকাশের উপর একটি পরিবার একটি জাতি ভবিষ্যৎ নির্ভরশীল। এদের লালন পালনে তাই আমাদের যথেষ্ট মনোযোগী ও কৌশলী হতে হবে পাশাপাশি পর্যাপ্ত সময় বিনিয়োগ করতে হবে তাহলে শিশুরা ব্রেন বুদ্ধি মত্তা পূর্ণতা পাবে।
জেনারেল চিকিৎসক
মোহাম্মদ হেলাল উদ্দিন
ডি আই এম (মেডিসিন)
ডি এ এম এস (ন্যাচারাল মেডিসিন)
এম সি এইচ (মা ও শিশু রোগ)
পত্নীতলা উপজেলা প্রতিনিধি মোঃ হেলাল উদ্দিনঃ- 



















