ঢাকা ০৫:০১ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৫ মে ২০২৬, ১ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

হলোখানায় নারী শিক্ষার জাগরণ,ছাত্রীদের হাতে স্কুল ব্যাগ তুলে দিয়ে দৃষ্টান্ত স্থাপন করলেন চেয়ারম্যান রেজাউল করিম রেজা

নারী শিক্ষার অগ্রযাত্রাকে বেগবান করতে হলে শুধু কথায় নয়, প্রয়োজন কার্যকর উদ্যোগ,আর সেই বাস্তব উদাহরণই দেখা গেল কুড়িগ্রামের হলোখানা ইউনিয়নে। সুবিধাবঞ্চিত ছাত্রীদের পাশে দাঁড়িয়ে এক মানবিক ও সময়োপযোগী উদ্যোগ গ্রহণ করেছেন হলোখানা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান জনাব রেজাউল করিম রেজা। তার নিজ উদ্যোগে নুরনবী বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের ছাত্রীদের মাঝে শিক্ষা সহায়তা হিসেবে স্কুল ব্যাগ বিতরণ করা হয়েছে, যা এলাকায় ব্যাপক প্রশংসা কুড়িয়েছে।
বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে আয়োজিত এই ব্যাগ বিতরণ কর্মসূচি যেন পরিণত হয় এক আনন্দঘন উৎসবে। নতুন ব্যাগ হাতে পেয়ে ছাত্রীদের চোখেমুখে ফুটে ওঠে আনন্দ, আত্মবিশ্বাস এবং স্বপ্ন পূরণের দৃঢ় প্রত্যয়। অনেকের কাছেই এটি ছিল শুধু একটি ব্যাগ নয়,বরং পড়াশোনায় টিকে থাকার নতুন শক্তি।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে চেয়ারম্যান রেজাউল করিম রেজা বলেন,
“নারী শিক্ষাকে গুরুত্ব না দিলে কোনো জাতি কখনো উন্নতির শিখরে পৌঁছাতে পারে না। আমাদের মেয়েরা যেন দারিদ্র্য বা অভাবের কারণে পড়াশোনা থেকে ঝরে না পড়ে, সেটি নিশ্চিত করা আমাদের দায়িত্ব। এই ক্ষুদ্র প্রয়াস তাদের শিক্ষাজীবনে কিছুটা হলেও সহায়ক হবে বলে আমি বিশ্বাস করি।”
বিদ্যালয়ের শিক্ষকরা এ উদ্যোগকে অত্যন্ত সময়োপযোগী ও প্রশংসনীয় বলে উল্লেখ করেন। তারা জানান, দরিদ্র পরিবারের অনেক মেধাবী ছাত্রী প্রয়োজনীয় শিক্ষা উপকরণের অভাবে পিছিয়ে পড়ে। এ ধরনের সহায়তা তাদের মাঝে নতুন উদ্যম সৃষ্টি করে এবং বিদ্যালয়ের প্রতি আগ্রহ বাড়ায়।
ছাত্রীদের প্রতিক্রিয়ায় উঠে আসে কৃতজ্ঞতা ও নতুন স্বপ্নের গল্প। তারা জানায়, এই সহায়তা তাদের পড়াশোনায় আরও মনোযোগী হতে অনুপ্রাণিত করবে এবং ভবিষ্যতে বড় হয়ে সমাজে প্রতিষ্ঠিত হওয়ার পথকে সুগম করবে।
সংশ্লিষ্টদের মতে, এ ধরনের উদ্যোগ শুধু সাময়িক সহায়তা নয়,এটি একটি শক্ত বার্তা বহন করে, “সমাজ তোমাদের পাশে আছে।” এই বার্তাই শিক্ষার্থীদের আত্মবিশ্বাস বাড়িয়ে তাদের জীবনের গতিপথ বদলে দিতে পারে।
মানবিকতা, দায়িত্ববোধ এবং শিক্ষার প্রতি অঙ্গীকার,এই তিনের সমন্বয়ে হলোখানার এই উদ্যোগ এখন এক অনুকরণীয় দৃষ্টান্তে পরিণত হয়েছে। সচেতন মহলের প্রত্যাশা, এমন উদ্যোগ ধারাবাহিকভাবে অব্যাহত থাকলে অদূর ভবিষ্যতে এই অঞ্চলের নারী শিক্ষা আরও সমৃদ্ধ ও শক্তিশালী হয়ে উঠবে।

ট্যাগস :
জনপ্রিয় সংবাদ

সবজির দাম চড়া, অস্থির ডিমের বাজার

হলোখানায় নারী শিক্ষার জাগরণ,ছাত্রীদের হাতে স্কুল ব্যাগ তুলে দিয়ে দৃষ্টান্ত স্থাপন করলেন চেয়ারম্যান রেজাউল করিম রেজা

আপডেট সময় : ০২:৫১:৩৭ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৩০ এপ্রিল ২০২৬

নারী শিক্ষার অগ্রযাত্রাকে বেগবান করতে হলে শুধু কথায় নয়, প্রয়োজন কার্যকর উদ্যোগ,আর সেই বাস্তব উদাহরণই দেখা গেল কুড়িগ্রামের হলোখানা ইউনিয়নে। সুবিধাবঞ্চিত ছাত্রীদের পাশে দাঁড়িয়ে এক মানবিক ও সময়োপযোগী উদ্যোগ গ্রহণ করেছেন হলোখানা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান জনাব রেজাউল করিম রেজা। তার নিজ উদ্যোগে নুরনবী বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের ছাত্রীদের মাঝে শিক্ষা সহায়তা হিসেবে স্কুল ব্যাগ বিতরণ করা হয়েছে, যা এলাকায় ব্যাপক প্রশংসা কুড়িয়েছে।
বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে আয়োজিত এই ব্যাগ বিতরণ কর্মসূচি যেন পরিণত হয় এক আনন্দঘন উৎসবে। নতুন ব্যাগ হাতে পেয়ে ছাত্রীদের চোখেমুখে ফুটে ওঠে আনন্দ, আত্মবিশ্বাস এবং স্বপ্ন পূরণের দৃঢ় প্রত্যয়। অনেকের কাছেই এটি ছিল শুধু একটি ব্যাগ নয়,বরং পড়াশোনায় টিকে থাকার নতুন শক্তি।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে চেয়ারম্যান রেজাউল করিম রেজা বলেন,
“নারী শিক্ষাকে গুরুত্ব না দিলে কোনো জাতি কখনো উন্নতির শিখরে পৌঁছাতে পারে না। আমাদের মেয়েরা যেন দারিদ্র্য বা অভাবের কারণে পড়াশোনা থেকে ঝরে না পড়ে, সেটি নিশ্চিত করা আমাদের দায়িত্ব। এই ক্ষুদ্র প্রয়াস তাদের শিক্ষাজীবনে কিছুটা হলেও সহায়ক হবে বলে আমি বিশ্বাস করি।”
বিদ্যালয়ের শিক্ষকরা এ উদ্যোগকে অত্যন্ত সময়োপযোগী ও প্রশংসনীয় বলে উল্লেখ করেন। তারা জানান, দরিদ্র পরিবারের অনেক মেধাবী ছাত্রী প্রয়োজনীয় শিক্ষা উপকরণের অভাবে পিছিয়ে পড়ে। এ ধরনের সহায়তা তাদের মাঝে নতুন উদ্যম সৃষ্টি করে এবং বিদ্যালয়ের প্রতি আগ্রহ বাড়ায়।
ছাত্রীদের প্রতিক্রিয়ায় উঠে আসে কৃতজ্ঞতা ও নতুন স্বপ্নের গল্প। তারা জানায়, এই সহায়তা তাদের পড়াশোনায় আরও মনোযোগী হতে অনুপ্রাণিত করবে এবং ভবিষ্যতে বড় হয়ে সমাজে প্রতিষ্ঠিত হওয়ার পথকে সুগম করবে।
সংশ্লিষ্টদের মতে, এ ধরনের উদ্যোগ শুধু সাময়িক সহায়তা নয়,এটি একটি শক্ত বার্তা বহন করে, “সমাজ তোমাদের পাশে আছে।” এই বার্তাই শিক্ষার্থীদের আত্মবিশ্বাস বাড়িয়ে তাদের জীবনের গতিপথ বদলে দিতে পারে।
মানবিকতা, দায়িত্ববোধ এবং শিক্ষার প্রতি অঙ্গীকার,এই তিনের সমন্বয়ে হলোখানার এই উদ্যোগ এখন এক অনুকরণীয় দৃষ্টান্তে পরিণত হয়েছে। সচেতন মহলের প্রত্যাশা, এমন উদ্যোগ ধারাবাহিকভাবে অব্যাহত থাকলে অদূর ভবিষ্যতে এই অঞ্চলের নারী শিক্ষা আরও সমৃদ্ধ ও শক্তিশালী হয়ে উঠবে।