এক সময় দুর্গম পাহাড় আর অপরাধীদের আস্তানা হিসেবে পরিচিত চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ড জঙ্গল সলিমপুর এখন আধুনিক উন্নয়নের পথে। ৩ হাজার ১০০ একরের এই বিশাল খাসজমিতে সরকারি বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ দপ্তর ও স্থাপনা নির্মাণের তোড়জোড় শুরু হয়েছে।
আগামী ১০ মে থেকে শুরু হতে যাওয়া পুলিশ সপ্তাহে জঙ্গল সলিমপুর নিয়ে বড় কিছু প্রস্তাবনা পেশ করা হতে পারে। যার মধ্যে রয়েছে:
রাজশাহীর সারদার পর এটি হবে দেশের দ্বিতীয় পুলিশ প্রশিক্ষণ কেন্দ্র।
আরআরএফ পুলিশ লাইন্স: রেঞ্জ রিজার্ভ ফোর্সের জন্য স্থায়ী আবাসন ও ব্যারাক।
এলাকার স্থায়ী নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে আধুনিক পুলিশি কাঠামো।
গত ৯ মার্চ সেনাবাহিনী, পুলিশ, র্যাব ও বিজিবির প্রায় ৩ হাজার ২০০ সদস্যের সমন্বয়ে গঠিত যৌথ বাহিনী এলাকাটি সন্ত্রাসমুক্ত করে। বর্তমানে সেখানে প্রায় ৪০০ পুলিশ সদস্য মোতায়েন থেকে সার্বক্ষণিক নিরাপত্তা দিচ্ছেন। চট্টগ্রাম রেঞ্জের অতিরিক্ত ডিআইজি (প্রশাসন) নাজিমুল হক নিশ্চিত করেছেন যে, অবৈধ চেকপোস্টগুলো উচ্ছেদ করা হয়েছে এবং বর্তমানে জনমনে কোনো আতঙ্ক নেই।
চট্টগ্রামের জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞা জানিয়েছেন, এলাকাটিকে ঘিরে একটি সমন্বিত মাস্টারপ্ল্যান গ্রহণ করা হয়েছে। এর আওতায় থাকছে:
নতুন সংযোগ সড়ক নির্মাণ।
চট্টগ্রাম জেলা কারাগার স্থানান্তর বা নতুন কারাগার স্থাপন।
র্যাব ও সেনাবাহিনীর জন্য বিশেষায়িত স্থাপনা।
এক নজরে জঙ্গল সলিমপুর
তথ্য বিবরণ
অবস্থান সীতাকুণ্ড উপজেলা (বায়েজিদ বোস্তামী থেকে ২ কি.মি. পশ্চিমে)
আয়তন প্রায় ৩,১০০ একর (খাসজমি)
জনসংখ্যা প্রায় ২০-২৫ হাজার (অধিকাংশই নিম্নআয়ের মানুষ)
প্রধান লক্ষ্য সন্ত্রাস নির্মূল ও স্থায়ী সরকারি অবকাঠামো তৈরি
চট্টগ্রাম শহরের কাছাকাছি অবস্থিত এই বিশাল পাহাড়ি এলাকায় শৃঙ্খলা ফিরলে একদিকে যেমন অপরাধমূলক কার্যক্রম চিরতরে বন্ধ হবে, অন্যদিকে সরকারি বিভিন্ন দপ্তর স্থাপনের মাধ্যমে এটি চট্টগ্রামের একটি আধুনিক উপশহর বা প্রশাসনিক জোন হিসেবে আত্মপ্রকাশ করবে।
জঙ্গল সলিমপুর নিয়ে এই রূপান্তর এখন কেবল সময়ের ব্যাপার। স্থানীয়দের প্রত্যাশা, সরকারি প্রকল্পগুলো দ্রুত বাস্তবায়িত হলে সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার মানও আমূল বদলে যাবে।
পারভেজ রহমান। চট্টগ্রাম প্রতিনিধি । 



















