ঢাকা ০২:৪১ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

মাছ চুরির অভিযোগে পৈশাচিক নির্যাতন: চিকিৎসাধীন অবস্থায় যুবকের মৃত্যু

মাছ চুরির অভিযোগে পৈশাচিক নির্যাতন: চিকিৎসাধীন অবস্থায় যুবকের মৃত্যু

কক্সবাজার জেলা ঈদগাঁও উপজেলার ইসলামপুর ইউনিয়নে মাছ চুরির অপবাদে পৈশাচিক নির্যাতনের শিকার সেলিম বাবু (৩০) মারা গেছেন। চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়। সেলিম বাবুর মৃত্যুর সংবাদ এলাকায় ছড়িয়ে পড়লে স্থানীয়দের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও উত্তেজনা দেখা দিয়েছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এলাকায় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর নজরদারি বাড়ানো হয়েছে।

​নিহতের পরিবার ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত বৃহস্পতিবার (১৬ এপ্রিল) রাত আনুমানিক ১১টার দিকে মধ্যম নাপিতখালী এলাকার সোলাইমান ড্রাইভারের ছেলে সেলিম বাবুকে বাড়ি থেকে ডেকে নিয়ে যায় একদল লোক। এরপর একটি মৎস্য ঘেরে নিয়ে তাকে মাছ চুরির অপবাদ দিয়ে রাতভর অমানুষিক নির্যাতন চালানো হয়।

​পরদিন সকালে তাকে গুরুতর আহত অবস্থায় উদ্ধার করে প্রথমে স্থানীয় হাসপাতালে এবং পরে অবস্থার অবনতি হলে দ্রুত চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। সেখানে কয়েকদিন মৃত্যুর সঙ্গে পাঞ্জা লড়ে অবশেষে তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন।

​নিহতের স্ত্রীর দাবি, তার স্বামীকে পরিকল্পিতভাবে মিথ্যা চুরির অপবাদ দিয়ে বাড়ি থেকে ডেকে নিয়ে হত্যা করা হয়েছে। তিনি আক্ষেপ করে বলেন:

​”আমার স্বামীকে যারা অমানবিক নির্যাতন করে মেরে ফেলেছে, আমি তাদের ফাঁসি চাই। সকালে আমি তাকে বাঁচাতে গেলে আমাকেও মারধর করা হয়েছে।”

​এ ঘটনায় স্থানীয় ইউপি সদস্য নুর মুহাম্মদের বিরুদ্ধে সরাসরি নির্যাতনের অভিযোগ তুলেছে নিহতের পরিবার। তবে অভিযুক্ত ইউপি সদস্য দাবি করেছেন, ঘের থেকে মাছ চুরির সময় হাতেনাতে ধরে তাকে মারধর করা হয়েছে।

​আইন নিজের হাতে তুলে নিয়ে এভাবে পিটিয়ে হত্যার ঘটনায় ইসলামপুর ইউনিয়নে চরম উত্তেজনা বিরাজ করছে। স্থানীয় সচেতন মহলের মতে, কেউ যদি অপরাধ করে থাকে তবে তাকে পুলিশে সোপর্দ করা উচিত ছিল। এভাবে পিটিয়ে মারা আইনের চরম লঙ্ঘন। ঘটনার পর থেকে অভিযুক্তদের শাস্তির দাবিতে এলাকায় থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে।

​ঈদগাঁও থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সিফাতুল মাজদা জানান, মারধরের ঘটনায় আগেই একটি মামলা দায়ের করা হয়েছিল। এখন মৃত্যুর পর সেটি হত্যা মামলায় রূপ নেবে। তিনি বলেন:

​পুলিশ ভুক্তভোগীর বাড়িতে গিয়ে পরিবারকে আইনি সহায়তার আশ্বাস দিয়েছে। ​লাশের ময়নাতদন্তের রিপোর্ট হাতে পেলে মৃত্যুর প্রকৃত কারণ নিশ্চিত হওয়া যাবে। ​আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে পুলিশি টহল জোরদার করা হয়েছে।

​এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন রয়েছে এবং অভিযুক্তদের গ্রেফতারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে বলে জানা গেছে।

জনপ্রিয় সংবাদ

ভূল্লীতে জমি দখলের পাঁয়তারা, ধান ও মেহগনি গাছ কাটার অভিযোগ

মাছ চুরির অভিযোগে পৈশাচিক নির্যাতন: চিকিৎসাধীন অবস্থায় যুবকের মৃত্যু

আপডেট সময় : ০৩:০৬:২৭ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৮ এপ্রিল ২০২৬

কক্সবাজার জেলা ঈদগাঁও উপজেলার ইসলামপুর ইউনিয়নে মাছ চুরির অপবাদে পৈশাচিক নির্যাতনের শিকার সেলিম বাবু (৩০) মারা গেছেন। চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়। সেলিম বাবুর মৃত্যুর সংবাদ এলাকায় ছড়িয়ে পড়লে স্থানীয়দের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও উত্তেজনা দেখা দিয়েছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এলাকায় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর নজরদারি বাড়ানো হয়েছে।

​নিহতের পরিবার ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত বৃহস্পতিবার (১৬ এপ্রিল) রাত আনুমানিক ১১টার দিকে মধ্যম নাপিতখালী এলাকার সোলাইমান ড্রাইভারের ছেলে সেলিম বাবুকে বাড়ি থেকে ডেকে নিয়ে যায় একদল লোক। এরপর একটি মৎস্য ঘেরে নিয়ে তাকে মাছ চুরির অপবাদ দিয়ে রাতভর অমানুষিক নির্যাতন চালানো হয়।

​পরদিন সকালে তাকে গুরুতর আহত অবস্থায় উদ্ধার করে প্রথমে স্থানীয় হাসপাতালে এবং পরে অবস্থার অবনতি হলে দ্রুত চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। সেখানে কয়েকদিন মৃত্যুর সঙ্গে পাঞ্জা লড়ে অবশেষে তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন।

​নিহতের স্ত্রীর দাবি, তার স্বামীকে পরিকল্পিতভাবে মিথ্যা চুরির অপবাদ দিয়ে বাড়ি থেকে ডেকে নিয়ে হত্যা করা হয়েছে। তিনি আক্ষেপ করে বলেন:

​”আমার স্বামীকে যারা অমানবিক নির্যাতন করে মেরে ফেলেছে, আমি তাদের ফাঁসি চাই। সকালে আমি তাকে বাঁচাতে গেলে আমাকেও মারধর করা হয়েছে।”

​এ ঘটনায় স্থানীয় ইউপি সদস্য নুর মুহাম্মদের বিরুদ্ধে সরাসরি নির্যাতনের অভিযোগ তুলেছে নিহতের পরিবার। তবে অভিযুক্ত ইউপি সদস্য দাবি করেছেন, ঘের থেকে মাছ চুরির সময় হাতেনাতে ধরে তাকে মারধর করা হয়েছে।

​আইন নিজের হাতে তুলে নিয়ে এভাবে পিটিয়ে হত্যার ঘটনায় ইসলামপুর ইউনিয়নে চরম উত্তেজনা বিরাজ করছে। স্থানীয় সচেতন মহলের মতে, কেউ যদি অপরাধ করে থাকে তবে তাকে পুলিশে সোপর্দ করা উচিত ছিল। এভাবে পিটিয়ে মারা আইনের চরম লঙ্ঘন। ঘটনার পর থেকে অভিযুক্তদের শাস্তির দাবিতে এলাকায় থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে।

​ঈদগাঁও থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সিফাতুল মাজদা জানান, মারধরের ঘটনায় আগেই একটি মামলা দায়ের করা হয়েছিল। এখন মৃত্যুর পর সেটি হত্যা মামলায় রূপ নেবে। তিনি বলেন:

​পুলিশ ভুক্তভোগীর বাড়িতে গিয়ে পরিবারকে আইনি সহায়তার আশ্বাস দিয়েছে। ​লাশের ময়নাতদন্তের রিপোর্ট হাতে পেলে মৃত্যুর প্রকৃত কারণ নিশ্চিত হওয়া যাবে। ​আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে পুলিশি টহল জোরদার করা হয়েছে।

​এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন রয়েছে এবং অভিযুক্তদের গ্রেফতারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে বলে জানা গেছে।