ঢাকা ০৬:৫৫ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

বান্দরবানে বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়ন নিয়ে প্রশ্ন: তদন্ত দাবি এলাকাবাসীর, অ’ভি’যোগ অস্বীকার জনপ্রতিনিধিদের

বান্দরবানে বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়ন নিয়ে প্রশ্ন: তদন্ত দাবি এলাকাবাসীর, অ'ভি'যোগ অস্বীকার জনপ্রতিনিধিদের

বান্দরবান জেলার বিভিন্ন উপজেলা ও ইউনিয়নে চলমান সরকারি উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়ন নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। সাম্প্রতিক সময়ে বিষয়টি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম, অনলাইন নিউজ পোর্টাল এবং বিভিন্ন দৈনিক পত্রিকায় আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে।
স্থানীয়দের একাংশের অভিযোগ, ২০২৫–২০২৬ অর্থবছরের আওতায় বাস্তবায়িত বেশ কিছু উন্নয়ন প্রকল্প—বিশেষ করে গ্রামীণ সড়ক নির্মাণ, মাটি ভরাট এবং সামাজিক অবকাঠামো উন্নয়ন—কাগজে সম্পন্ন দেখানো হলেও বাস্তবে কাজ আংশিক হয়েছে, এমনকি কোথাও কোথাও কাজ শুরুই হয়নি।
এলাকাবাসীর ভাষ্যমতে, কিছু স্থানে রাস্তা নির্মাণের পরিবর্তে শুধুমাত্র ঝোপঝাড় পরিষ্কার করেই কাজ শেষ দেখানো হয়েছে। আবার কিছু সংস্কার প্রকল্পে দৃশ্যমান কোনো অগ্রগতি নেই। বর্ষা মৌসুম এলেই আগের মতোই চলাচলে চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে সাধারণ মানুষকে।
এ বিষয়ে স্থানীয়দের দাবি, যথাযথ তদারকি ও মনিটরিংয়ের অভাবেই এ ধরনের পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। তারা দ্রুত নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত চিত্র উন্মোচনের আহ্বান জানিয়েছেন।
অভিযোগের বিষয়ে কথা বলতে গিয়ে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন ইউনিয়ন পরিষদের জনপ্রতিনিধি জানান, পাহাড়ি এলাকার ভৌগোলিক বাস্তবতার কারণে অনেক সময় উন্নয়ন কাজ সরাসরি দৃশ্যমান হয় না। তাদের মতে, দুর্গম অঞ্চল, প্রতিকূল আবহাওয়া, পাহাড়ধস এবং যোগাযোগ ব্যবস্থার সীমাবদ্ধতার কারণে প্রকল্প বাস্তবায়নে বিলম্ব হওয়াটা স্বাভাবিক।
তারা আরও দাবি করেন, সরকারি নির্দেশনা ও নিয়মনীতি মেনেই প্রকল্পগুলো বাস্তবায়ন করা হয়েছে এবং কোনো অনিয়ম হয়ে থাকলে প্রশাসনিক তদন্তেই তা স্পষ্ট হবে।
এদিকে উপজেলা পর্যায়ের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, প্রতিটি প্রকল্পের বিল ছাড়ের আগে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র যাচাই-বাছাই করা হয়। কোনো অভিযোগ পাওয়া গেলে সরেজমিন তদন্তের উদ্যোগ নেওয়া হবে বলেও তারা আশ্বাস দিয়েছেন।
একজন দায়িত্বশীল কর্মকর্তা বলেন, “যদি কোথাও কাজ অসম্পূর্ণ থাকে বা অনিয়ম প্রমাণিত হয়, তাহলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে বিধি অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
তবে স্থানীয়দের প্রশ্ন, যেসব প্রকল্পের কাজ মাঠে দৃশ্যমান নয়, সেসব প্রকল্পের বিপরীতে কীভাবে বিল ছাড় করা হয়েছে—তা নিয়ে সঠিক ব্যাখ্যা প্রয়োজন।
সচেতন মহলের মতে, উন্নয়ন প্রকল্পগুলোতে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে হলে নিয়মিত মনিটরিং, সামাজিক নিরীক্ষা (Social Audit) এবং স্থানীয় জনগণের অংশগ্রহণ বাড়ানো জরুরি। পাশাপাশি জেলা প্রশাসন ও দুর্নীতি দমন কমিশনের কার্যকর নজরদারি নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন তারা।
স্থানীয় সাংবাদিক, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারকারী এবং বিভিন্ন নাগরিক সংগঠনের পক্ষ থেকেও বিষয়টি নিয়ে সোচ্চার ভূমিকা দেখা গেলেও প্রশাসনের দৃশ্যমান তৎপরতা না থাকায় প্রশ্ন উঠছে—এই নীরবতা কেন?
সরকারি উন্নয়ন তহবিল জনগণের কল্যাণে ব্যবহারের জন্য বরাদ্দ। তাই অভিযোগের সত্যতা যাচাই ও প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণই এখন সময়ের দাবি বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

জনপ্রিয় সংবাদ

ভূল্লীতে জমি দখলের পাঁয়তারা, ধান ও মেহগনি গাছ কাটার অভিযোগ

বান্দরবানে বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়ন নিয়ে প্রশ্ন: তদন্ত দাবি এলাকাবাসীর, অ’ভি’যোগ অস্বীকার জনপ্রতিনিধিদের

আপডেট সময় : ১০:৩৩:৩৩ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ৩ এপ্রিল ২০২৬

বান্দরবান জেলার বিভিন্ন উপজেলা ও ইউনিয়নে চলমান সরকারি উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়ন নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। সাম্প্রতিক সময়ে বিষয়টি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম, অনলাইন নিউজ পোর্টাল এবং বিভিন্ন দৈনিক পত্রিকায় আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে।
স্থানীয়দের একাংশের অভিযোগ, ২০২৫–২০২৬ অর্থবছরের আওতায় বাস্তবায়িত বেশ কিছু উন্নয়ন প্রকল্প—বিশেষ করে গ্রামীণ সড়ক নির্মাণ, মাটি ভরাট এবং সামাজিক অবকাঠামো উন্নয়ন—কাগজে সম্পন্ন দেখানো হলেও বাস্তবে কাজ আংশিক হয়েছে, এমনকি কোথাও কোথাও কাজ শুরুই হয়নি।
এলাকাবাসীর ভাষ্যমতে, কিছু স্থানে রাস্তা নির্মাণের পরিবর্তে শুধুমাত্র ঝোপঝাড় পরিষ্কার করেই কাজ শেষ দেখানো হয়েছে। আবার কিছু সংস্কার প্রকল্পে দৃশ্যমান কোনো অগ্রগতি নেই। বর্ষা মৌসুম এলেই আগের মতোই চলাচলে চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে সাধারণ মানুষকে।
এ বিষয়ে স্থানীয়দের দাবি, যথাযথ তদারকি ও মনিটরিংয়ের অভাবেই এ ধরনের পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। তারা দ্রুত নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত চিত্র উন্মোচনের আহ্বান জানিয়েছেন।
অভিযোগের বিষয়ে কথা বলতে গিয়ে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন ইউনিয়ন পরিষদের জনপ্রতিনিধি জানান, পাহাড়ি এলাকার ভৌগোলিক বাস্তবতার কারণে অনেক সময় উন্নয়ন কাজ সরাসরি দৃশ্যমান হয় না। তাদের মতে, দুর্গম অঞ্চল, প্রতিকূল আবহাওয়া, পাহাড়ধস এবং যোগাযোগ ব্যবস্থার সীমাবদ্ধতার কারণে প্রকল্প বাস্তবায়নে বিলম্ব হওয়াটা স্বাভাবিক।
তারা আরও দাবি করেন, সরকারি নির্দেশনা ও নিয়মনীতি মেনেই প্রকল্পগুলো বাস্তবায়ন করা হয়েছে এবং কোনো অনিয়ম হয়ে থাকলে প্রশাসনিক তদন্তেই তা স্পষ্ট হবে।
এদিকে উপজেলা পর্যায়ের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, প্রতিটি প্রকল্পের বিল ছাড়ের আগে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র যাচাই-বাছাই করা হয়। কোনো অভিযোগ পাওয়া গেলে সরেজমিন তদন্তের উদ্যোগ নেওয়া হবে বলেও তারা আশ্বাস দিয়েছেন।
একজন দায়িত্বশীল কর্মকর্তা বলেন, “যদি কোথাও কাজ অসম্পূর্ণ থাকে বা অনিয়ম প্রমাণিত হয়, তাহলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে বিধি অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
তবে স্থানীয়দের প্রশ্ন, যেসব প্রকল্পের কাজ মাঠে দৃশ্যমান নয়, সেসব প্রকল্পের বিপরীতে কীভাবে বিল ছাড় করা হয়েছে—তা নিয়ে সঠিক ব্যাখ্যা প্রয়োজন।
সচেতন মহলের মতে, উন্নয়ন প্রকল্পগুলোতে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে হলে নিয়মিত মনিটরিং, সামাজিক নিরীক্ষা (Social Audit) এবং স্থানীয় জনগণের অংশগ্রহণ বাড়ানো জরুরি। পাশাপাশি জেলা প্রশাসন ও দুর্নীতি দমন কমিশনের কার্যকর নজরদারি নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন তারা।
স্থানীয় সাংবাদিক, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারকারী এবং বিভিন্ন নাগরিক সংগঠনের পক্ষ থেকেও বিষয়টি নিয়ে সোচ্চার ভূমিকা দেখা গেলেও প্রশাসনের দৃশ্যমান তৎপরতা না থাকায় প্রশ্ন উঠছে—এই নীরবতা কেন?
সরকারি উন্নয়ন তহবিল জনগণের কল্যাণে ব্যবহারের জন্য বরাদ্দ। তাই অভিযোগের সত্যতা যাচাই ও প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণই এখন সময়ের দাবি বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।