মতিঝিলে বাংলাদেশ ব্যাংকের সামনে পুরনো নকশার ২ টাকার নতুন এক বান্ডিল বিক্রি হচ্ছে ১০০ থেকে ১৫০ টাকা বাড়তি দামে। ১০ টাকার পুরনো নকশার নোটের বান্ডিল বিক্রি হচ্ছে ২৫০ থেকে ৩০০ টাকা বাড়তি দামে। নতুন নকশার ১০ টাকার নোট কিনতে বাড়তি গুনতে হচ্ছে ৩০০ থেকে ৩৫০ টাকা।
এ ছাড়া ২০ টাকার নতুন নকশার নোটের বান্ডিল ৩০০ থেকে ৩৫০ টাকা এবং পুরনো নকশার নোট ২৫০ থেকে ৩০০ টাকা বাড়তি দামে বিক্রি হচ্ছে। ৫০ টাকার পুরনো নকশার নোটের বান্ডিল বিক্রি হচ্ছে ২০০ টাকা বাড়তি দামে এবং নতুন নকশার নোটের ক্ষেত্রে অতিরিক্ত দিতে হচ্ছে ২৫০ থেকে ৩০০ টাকা। ১০০ টাকার নতুন ও পুরনো নোটের বান্ডিল বিক্রি হচ্ছে ৩০০ থেকে ৪০০ টাকা বাড়তি দামে। এ ছাড়া ২০০, ৫০০ ও ১ হাজার টাকার নোটের বান্ডিল কিনতেও ক্রেতাদের দিতে হচ্ছে ২০০ থেকে ৩০০ টাকা অতিরিক্ত। তবে বিক্রেতাভেদে দামে কিছুটা কমবেশি রয়েছে এবং অনেক ক্ষেত্রে দরদাম করে বান্ডিলপ্রতি ২০ থেকে ৫০ টাকা কমাতেও দেখা গেছে।
ব্যাংকে না পেয়ে ফুটপাতে : মতিঝিলে বাংলাদেশ ব্যাংকের সামনে নতুন নোট কিনতে আসা বেসরকারি চাকরিজীবী সাইফুল ইসলাম বলেন, তিনি ২০ টাকার এক বান্ডিল নতুন নোট কিনতে ৩৩০ টাকা অতিরিক্ত দিয়েছেন। তিনি বলেন, ‘পরিবারের সঙ্গে ঈদ করতে ফরিদপুর যাব। বাড়ির ছোট ভাই ও শিশুদের জন্য নতুন নোট নিতে চেয়েছিলাম। সকালে ব্যাংকে খোঁজ নিয়ে না পেয়ে শেষ পর্যন্ত এখানে এসে কিনতে হলো।’ গুলিস্তানে নতুন নোট কিনতে আসা রেজাউল করিম বলেন, ‘গ্রামে যাওয়ার আগে তারা ১০ ও ২০ টাকার নতুন নোটের বান্ডিল কিনতে এসেছেন। তাদের কাছে বান্ডিলপ্রতি ৩৫০ থেকে ৪০০ টাকা পর্যন্ত বাড়তি দাম চাওয়া হয়েছে।’
দাম আরো বাড়তে পারে : গুলিস্তানের এক বিক্রেতা রফিকুল ইসলাম বলেন, বাজারে এবার নতুন নোটের সরবরাহ কম। বর্তমানে দাম কিছুটা কম থাকলেও ঈদ যত ঘনিয়ে আসবে, চাহিদা বাড়লে দাম আরো বাড়তে পারে।
নতুন নোট বিক্রি বেআইনি : বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক ও মুখপাত্র আরিফ হোসেন খান বলেন, নতুন নোটকে পণ্য হিসেবে বাজারে বিক্রি করা সম্পূর্ণ বেআইনি। তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশ ব্যাংক বা বাণিজ্যিক ব্যাংকের কোনো কর্মকর্তা যদি এ ধরনের কাজে জড়িত থাকেন, তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’ তিনি আরও বলেন, প্রতিটি উৎসবে নতুন নোটের চাহিদা থাকলেও ধীরে ধীরে এই আকাঙ্ক্ষা থেকে বেরিয়ে আসতে হবে, কারণ দেশ ক্যাশলেস অর্থনীতির দিকে এগোচ্ছে। নতুন নোট কোনো পণ্য নয়, তাই এটি বিক্রি করাও বেআইনি। তিনি জানান, এ ধরনের অবৈধ কর্মকাণ্ডে কেউ জড়িত থাকলে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ব্যবস্থা নেবে এবং ব্যাংকিং খাতের কেউ যুক্ত থাকলে প্রশাসনিক পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
অনলাইন ডেস্ক, 

























