বিশুদ্ধ খাদ্য নিশ্চিতকরণে নিরাপদ খাদ্য আইন, ২০১৩ অনুযায়ী হবিগঞ্জ সদর ও নবীগঞ্জ উপজেলায় নিয়মিত ভ্রাম্যমাণ আদালত অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে। হবিগঞ্জের বিজ্ঞ চীফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মোহাম্মদ জাকির হোসেন টিপুর নির্দেশনায় গত ৩০ ও ৩১ জানুয়ারি এ অভিযান পরিচালিত হয়।
শুক্রবার (৩০ জানুয়ারি) হবিগঞ্জ সদর উপজেলায় এবং শনিবার (৩১ জানুয়ারি) নবীগঞ্জ উপজেলায় বিকাল ২টা থেকে সন্ধ্যা সাড়ে ৫টা পর্যন্ত পরিচালিত অভিযানে নেতৃত্ব দেন বিশুদ্ধ খাদ্য আদালতের বিচারক ও বিজ্ঞ সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মোহাম্মদ শাহেদুল আলম।
অভিযানে সার্বিক সহযোগিতা করেন র্যাব-৯, সিপিসি-৩ (শায়েস্তাগঞ্জ)–এর ডিএডি শাহ আলমের নেতৃত্বে র্যাব সদস্যরা, হবিগঞ্জ সদর মডেল থানার এসআই জাহাঙ্গীর আলমের নেতৃত্বে পুলিশ বাহিনী এবং নবীগঞ্জ থানার এসআই মইনুল হোসেনের নেতৃত্বে পুলিশ সদস্যরা। এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন হবিগঞ্জ জেলা নিরাপদ খাদ্য অফিসের ল্যাব টেকনিশিয়ানসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা এবং জেলা স্যানিটারি ইন্সপেক্টর শেখ আব্দুল আলী।
বিশুদ্ধ খাদ্য আদালত সূত্রে জানা যায়, ৩০ জানুয়ারি হবিগঞ্জ সদর উপজেলার শিল্পনগরী ধুলিয়াখাল এলাকায় অবস্থিত মেসার্স আসাদ ফুড প্রোডাক্টস, রাজদ্বীপ (সুরুচি ফুড), মেসার্স আসাদ ফুড, জেমস স্পোর্টস, আমেনা বেকারি এবং হবিগঞ্জ মহানপুর এলাকার আলম ফুড গার্ডেন বেকারি অ্যান্ড সুইটসে অভিযান চালানো হয়। অপরদিকে ৩১ জানুয়ারি নবীগঞ্জ উপজেলার মাইশা ফুড, ভিআইপি বেকারি, শেখ আলীশা ফুড এবং বিসমিল্লাহ ব্রেড অ্যান্ড বিস্কুট ফ্যাক্টরিতে অভিযান পরিচালিত হয়।
অভিযানকালে দেখা যায়, নোংরা ও অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে বিস্কুট, মিষ্টি, জিলাপি, কেক, বনরুটি ও পাউরুটি প্রস্তুত করা হচ্ছে। একই সঙ্গে কুকিং তেল পুনরায় ব্যবহার, শ্রমিকদের গ্লাভস ও ক্যাপ ব্যবহার না করা, খাদ্যপণ্যে সঠিক লেবেল না থাকা, চিনির পরিবর্তে স্যাকারিন ব্যবহার, নন-ফুড গ্রেড রং ও আয়োডিনবিহীন লবণ ব্যবহারের মতো গুরুতর অনিয়ম ধরা পড়ে।
এ সময় বিপুল পরিমাণ অস্বাস্থ্যকর খাদ্যপণ্য জব্দ করা হয় এবং নমুনা সংগ্রহ করে পরীক্ষার জন্য সিলগালা অবস্থায় ল্যাবরেটরিতে পাঠানো হয়। গুরুতর অনিয়মে জড়িত প্রতিষ্ঠানগুলোর বিরুদ্ধে মামলা দায়েরের জন্য প্রসিকিউশনকে নির্দেশ প্রদান করা হয়েছে।
প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, জনস্বার্থে এ ধরনের অভিযান নিয়মিতভাবে অব্যাহত থাকবে এবং ভোক্তাদের স্বাস্থ্যঝুঁকিতে ফেললে কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না।
।হবিগঞ্জ সদর প্রতিনিধি সৌমিত্র কুমার দাস। 



















