ঢাকা ০৭:৫৮ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

উত্তরের জনপদ পঞ্চগড়ে হাড়-কাঁপানো শীত, কাহিল ছিন্নমূল ও নিম্ন আয়ের মানুষ

উত্তরের জনপদ পঞ্চগড়ে হাড়-কাঁপানো শীত, কাহিল ছিন্নমূল ও নিম্ন আয়ের মানুষ

হিমালয়ের পাদদেশঘেঁষা উত্তরের সীমান্ত জেলা পঞ্চগড়ে জেঁকে বসেছে তীব্র হাড় কাঁপানো শীত। হিমেল হাওয়া আর ঘন কুয়াশার দাপটে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে জনজীবন। বিশেষ করে ছিন্নমূল ও নিম্ন আয়ের মানুষজন শীতের প্রকোপে কার্যত কাহিল হয়ে পড়েছেন।
বিকেল গড়াতেই উত্তরের হিমেল বাতাস শীতের তীব্রতা বাড়িয়ে দেয় বহুগুণ। দিনের আলো থাকলেও সূর্যের মুখ দেখা যাচ্ছে না গত দুই দিন ধরে। ঘন কুয়াশার কারণে জেলার বিভিন্ন সড়কে হেডলাইট জ্বালিয়ে যানবাহন চলাচল করতে দেখা গেছে।

শীতের প্রকোপে সবচেয়ে বেশি ভোগান্তিতে পড়েছেন খেটে খাওয়া মানুষজন। কাজ কমে যাওয়ায় অনেকের আয়-রোজগার প্রায় বন্ধ হয়ে গেছে। একটু উষ্ণতার আশায় শিশুদের খড়-কুটো জ্বালিয়ে আগুন পোহাতে দেখা গেছে বিভিন্ন এলাকায়।

মোলানী গ্রামের বাসিন্দা বাসেত জানান, কয়েক দিন ধরেই প্রচণ্ড ঠান্ডা। কাজ করতে পারছি না, আয় কমে গেছে। এই অবস্থায় সরকারি বেসরকারি সহায়তা খুব দরকার।
ভ্যানচালক আব্দুর রহিম বলেন,হিমেল বাতাস আর কুয়াশার কারণে যাত্রী কমে গেছে। আয় কম হওয়ায় মালিকের কিস্তি দিতে পারছি না। পরিবার নিয়ে কষ্টে আছি।
রাজনগর নতুন বস্তি এলাকার মুন্না মিয়া জানান, তীব্র শীত থেকে বাঁচতে পরিবারের সবার জন্য গরম কাপড় কিনতে হয়েছে। তবে সবার সেই সামর্থ্য নেই।
শীতের তীব্রতা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে শহরের ফুটপাতের পুরনো ও মোটা গরম কাপড়ের দোকানগুলোতে বেড়েছে বেচাকেনা।
এদিকে তেঁতুলিয়া আবহাওয়া পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা জিতেন্দ্র নাথ রায় মুঠোফোনে জানান, কয়েক দিন ধরেই পঞ্চগড়ে তাপমাত্রা ওঠানামা করছে।

রোববার (২৮ ডিসেম্বর) সকাল ৯টায় তেঁতুলিয়ায় সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে ১৩ দশমিক ৩ ডিগ্রি সেলসিয়াস। এ সময় বাতাসের আর্দ্রতা ছিল ৯৫ শতাংশ।
সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, এই তীব্র শীতের সময় সমাজের বিত্তবান ও দানশীল ব্যক্তিরা এগিয়ে এলে জেলার ছিন্নমূল ও নিম্ন আয়ের মানুষজন কিছুটা হলেও স্বস্তি পাবে এবং শীত মোকাবিলায় সহায়তা খুঁজে পাবে।

জনপ্রিয় সংবাদ

ভূল্লীতে জমি দখলের পাঁয়তারা, ধান ও মেহগনি গাছ কাটার অভিযোগ

উত্তরের জনপদ পঞ্চগড়ে হাড়-কাঁপানো শীত, কাহিল ছিন্নমূল ও নিম্ন আয়ের মানুষ

আপডেট সময় : ০৩:২০:৪৯ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৮ ডিসেম্বর ২০২৫

হিমালয়ের পাদদেশঘেঁষা উত্তরের সীমান্ত জেলা পঞ্চগড়ে জেঁকে বসেছে তীব্র হাড় কাঁপানো শীত। হিমেল হাওয়া আর ঘন কুয়াশার দাপটে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে জনজীবন। বিশেষ করে ছিন্নমূল ও নিম্ন আয়ের মানুষজন শীতের প্রকোপে কার্যত কাহিল হয়ে পড়েছেন।
বিকেল গড়াতেই উত্তরের হিমেল বাতাস শীতের তীব্রতা বাড়িয়ে দেয় বহুগুণ। দিনের আলো থাকলেও সূর্যের মুখ দেখা যাচ্ছে না গত দুই দিন ধরে। ঘন কুয়াশার কারণে জেলার বিভিন্ন সড়কে হেডলাইট জ্বালিয়ে যানবাহন চলাচল করতে দেখা গেছে।

শীতের প্রকোপে সবচেয়ে বেশি ভোগান্তিতে পড়েছেন খেটে খাওয়া মানুষজন। কাজ কমে যাওয়ায় অনেকের আয়-রোজগার প্রায় বন্ধ হয়ে গেছে। একটু উষ্ণতার আশায় শিশুদের খড়-কুটো জ্বালিয়ে আগুন পোহাতে দেখা গেছে বিভিন্ন এলাকায়।

মোলানী গ্রামের বাসিন্দা বাসেত জানান, কয়েক দিন ধরেই প্রচণ্ড ঠান্ডা। কাজ করতে পারছি না, আয় কমে গেছে। এই অবস্থায় সরকারি বেসরকারি সহায়তা খুব দরকার।
ভ্যানচালক আব্দুর রহিম বলেন,হিমেল বাতাস আর কুয়াশার কারণে যাত্রী কমে গেছে। আয় কম হওয়ায় মালিকের কিস্তি দিতে পারছি না। পরিবার নিয়ে কষ্টে আছি।
রাজনগর নতুন বস্তি এলাকার মুন্না মিয়া জানান, তীব্র শীত থেকে বাঁচতে পরিবারের সবার জন্য গরম কাপড় কিনতে হয়েছে। তবে সবার সেই সামর্থ্য নেই।
শীতের তীব্রতা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে শহরের ফুটপাতের পুরনো ও মোটা গরম কাপড়ের দোকানগুলোতে বেড়েছে বেচাকেনা।
এদিকে তেঁতুলিয়া আবহাওয়া পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা জিতেন্দ্র নাথ রায় মুঠোফোনে জানান, কয়েক দিন ধরেই পঞ্চগড়ে তাপমাত্রা ওঠানামা করছে।

রোববার (২৮ ডিসেম্বর) সকাল ৯টায় তেঁতুলিয়ায় সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে ১৩ দশমিক ৩ ডিগ্রি সেলসিয়াস। এ সময় বাতাসের আর্দ্রতা ছিল ৯৫ শতাংশ।
সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, এই তীব্র শীতের সময় সমাজের বিত্তবান ও দানশীল ব্যক্তিরা এগিয়ে এলে জেলার ছিন্নমূল ও নিম্ন আয়ের মানুষজন কিছুটা হলেও স্বস্তি পাবে এবং শীত মোকাবিলায় সহায়তা খুঁজে পাবে।