তিন মাস ২৭ দিন পর আজ শনিবার (২৭ ডিসেম্বর) সকাল ৭টায় খোলা হয় মসজিদের ১৩টি লোহার দানবাক্স। বাক্স খোলার সঙ্গে সঙ্গেই চোখে পড়ে টাকার স্তূপ।
মসজিদ পরিচালনা কমিটির সভাপতি ও কিশোরগঞ্জের জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ আসলাম মোল্লা বলেন, দানকারীদের বিশ্বাস, এখানকার দানে পূর্ণ হয় মনোবাসনা।
কিশোরগঞ্জের পুলিশ সুপার মোহাম্মদ ড. এস এম ফরহাদ হোসেন বলেছেন, গণনা প্রক্রিয়াটি ছিল সম্পূর্ণ সুরক্ষিত ও স্বচ্ছ। কোনো ধরনের বিশৃঙ্খলা ছাড়াই মসজিদের টাকা গণনার কাজ শেষ হয়েছে।
মসজিদ পরিচালনা কমিটির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, ব্যাংকে জমা রাখা মসজিদের তহবিলের অর্থ থেকে যে লভ্যাংশ পাওয়া যায়, তা থেকে ক্যানসার, কিডনি ও অন্যান্য জটিল রোগে আক্রান্ত দরিদ্র লোকদের সহায়তা করা হয়। পাগলা মসজিদের আর্থিক সহযোগিতায় চলে একটি মাদরাসাও। তহবিলে বর্তমানে শতকোটিরও বেশি টাকা রয়েছে। এই অর্থ দিয়ে এখানে তৈরি হবে একটি আন্তর্জাতিক মানের বহুতল ইসলামী ককমপ্লেক্স। আর ভবিষ্যতে পাগলা মসজিদের সামাজিক সুরক্ষামূলক কর্মকাণ্ড আরো বাড়ানো হবে।
মসজিদ পরিচালানা কমিটির পক্ষ থেকে আরো জানানো হয়, আপাতত মসজিদের তহবিল থেকে বড় অঙ্কের টাকা ব্যয় করা হচ্ছে না। এগুলো কমপ্লেক্স নির্মাণের জন্য জমানো হচ্ছে। মসজিদের কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের বেতনের টাকাটা কেবল ব্যয় করা হয়। জেলা প্রশাসক পদাধিকারবলে মসজিদ পরিচালনা কমিটির সভাপতি।
তিনতলা বিশিষ্ট এই ঐতিহ্যবাহী মসজিদটি শুধ ধর্মীয় নয়, কিশোরগঞ্জবাসীর বিশ্বাস ও আবেগের কেন্দ্রস্থল। যার খ্যাতি এরইমধ্যে দেশ-বিদেশে ছড়িয়ে পড়েছে। তিনটি গম্বুজ ও পাঁচতলা ভবনের সামনে উঁচু মিনারবিশিষ্ট এই স্থাপনা যেন দাঁড়িয়ে আছে মানুষের ভালোবাসা আর দানের অসীম শক্তির সাক্ষ্য হয়ে।
ডিজিটাল ডেক্স 



















