নামাজ ইসলামের পঞ্চ স্তম্ভের অন্যতম। পবিত্র কোরআন ও হাদিসে যেমন নামাজ আদায়ের বহু ফজিলত বর্ণিত হয়েছে ও তা আদায়ের উৎসাহ দেওয়া হয়েছে। ঠিক তেমনি নামাজ ছেড়ে দেওয়ার ব্যাপারে বর্ণিত হয়েছে অনেক ধমকি ও শাস্তির কথাও। সঠিক সময়ে নামাজ আদায়ের দ্বারা ব্যক্তি আল্লাহর নৈকট্যলাভে ধন্য হয়।
আর অযথা অকারণে নামাজ ছেড়ে দিলে ব্যক্তি হয় আল্লাহর বিরাগভাজন। নিম্নে নামাজ আদায়ের কিছু ফজিলত ও অযথা ছেড়ে দেওয়ার কঠোরতার সম্বন্ধে কয়েকটি হাদিস উপস্থাপন করা হলো।
উত্তমরূপে অজু ও নামাজ পড়ার ফজিলত
আমর ইবনে সাঈদ ইবনুল আতা (রা.) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি উসমান (রা.) এর নিকট উপস্থিত ছিলাম।
এমন সময় তিনি পানি আনার নির্দেশ দিলেন। তারপর বললেন, আমি রাসুলুল্লাহ (সা.)-কে বলতে শুনেছি যে, যখন কোনো ফরজ নামাজের ওয়াক্ত হয়। আর মুসলিম ব্যক্তি উত্তমরূপে অজু করে। নামাজে বিনয় ও রুকুকে উত্তমরূপে আদায় করে।
তাহলে যতক্ষণ না সে কোনো কবিরা গুনাহে লিপ্ত হবে এই নামাজ তার পূর্ববর্তী সব গুনাহের জন্য কাফফারা হয়ে যাবে। তিনি বলেন, আর এ অবস্থা সর্বযুগেই বিদ্যমান। (সহিহ মুসলিম, হাদিস নং ২৩২)
আবু যর গিফারী (রা.) হতে বর্ণিত। তিনি বলেছেন, নবীজি (সা.) একদা শীতকালে বাইরে বের হলেন। তখন বৃক্ষ হতে পাতা ঝরে পড়ছিল।
তিনি একটি বৃক্ষের দুটি ডাল ধরে নাড়া দিলেন। বর্ণনাকারী বলেন, তাতে বৃক্ষের পাতা আরও বেশি ঝরতে লাগল। হযরত আবু যর রা. বলেন, নবীজি তখন আমাকে ডাকলেন, হে আবু যর! আমি সাড়া দিয়ে বললাম, ইয়া রাসূলাল্লাহ! আমি উপস্থিত! তিনি বললেন, নিশ্চয় মুসলমানগণ যখন নামাজ পড়ে এবং তার দ্বারা উদ্দেশ্য হয় কেবল আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জন। তখন তার গুনাহসমূহ ঝরে যেতে থাকে, যেভাবে বৃক্ষ হতে পাতাগুলো ঝরে পড়ছে। (মিশকাতুল মাসাবিহ, হাদিস : ৫৭৬)
নামাজ পরিত্যাগ করা কুফুর
জাবির (রা.) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, বান্দা ও কুফরের মাঝে ব্যবধান হল নামাজ পরিত্যাগ করা। (তিরমিজি, হাদিস : ২৬২০)
স্বেচ্ছায় নামাজ ছাড়লে আল্লাহর জিম্মা উঠে যায়
আবু দারদা (রা.) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমার বন্ধু রাসুলুল্লাহ (সা.) আমাকে অসিয়ত করেছেন যে, আল্লাহর সঙ্গে কিছু শরীক করবে না, যদিও তোমাকে টুকরো টুকরো করা হয়, কিংবা আগুনে ভস্মীভূত করা হয়। আর ইচ্ছাকৃতভাবে ফরজ নামাজ ছেড়ে দেবে না। যে ব্যক্তি স্বেচ্ছায় তা ছেড়ে দেয়, তার থেকে আল্লাহর জিম্মা উঠে যায়। মদ পান করবে না। কেননা, তা সমস্ত পাপ কাজের মূল। (ইবনে মাজা, হাদিস : ৪০৩৪)
অনলাইন ডেস্ক 

























